প্রস্তাবিত বাজেটে দক্ষিণাঞ্চল উপেক্ষিত: গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে মানববন্ধন, বিশেষ বরাদ্দের আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ৩২৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো উপেক্ষিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণবাংলার বিভিন্ন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। এ বৈষম্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও দক্ষিণাঞ্চল এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান, নদীভাঙন, যোগাযোগ সংকট এবং শিল্পায়নের অভাবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার সম্মুখীন হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ বা বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়নি।
সমাবেশ থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, নদীভাঙন রোধে দক্ষিণাঞ্চলের সব জেলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা, ভোলার অব্যবহৃত গ্যাস ব্যবহার করে ভোলা-বরিশাল-পটুয়াখালী অঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপন, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, কুয়াকাটায় বিমানবন্দর ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন নির্মাণ।
বক্তারা বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। অথচ জাতীয় বাজেটে এসব প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান অগ্রাধিকার না থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নিজেদের আবারও বৈষম্যের শিকার বলে মনে করছেন।
মানববন্ধনে প্রায় ১০টি জেলা থেকে আগত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা দক্ষিণাঞ্চলের ন্যায্য উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে বক্তারা প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি প্রস্তাবিত বাজেটে সংশোধনী এনে উল্লিখিত প্রকল্পগুলোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রদানের আহ্বান জানান। তারা বলেন, উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমানভাবে পৌঁছে দিতে হলে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করতে হবে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমেই দক্ষিণবাংলাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়িত হবে এবং এ অঞ্চল দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
























