ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
খুলনা আর্ট একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণশালায় শিক্ষার্থী চারুলতা ঢালীর অনন্য উপহার গোয়াইনঘাটে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত উপজেলা গঠনে অগ্রগতি সহভাগিতা সভা অনুষ্ঠিত কবিতাঃ যাত্রাপথে আতঙ্ক গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন: জমি রক্ষায় দুই গ্রামবাসীর মানববন্ধন খুলনা আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থী সপ্তসী রায় জন্মাষ্টমীর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন রাসুল (সা.)সুন্নাহ অনুসরণেই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত- সীরতুন্নবী মাহফিলের ১৬তম দিবসে বক্তারা তফসিলের আগেই দৌড়ঝাঁপ:ক্ষেতলাল, বড়াইলের চেয়ারম্যান হতে গ্রামবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন মুর্শিদ খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নবাগত উপপরিচালকের সঙ্গে সিইউসি পরিবারের সৌজন্য সাক্ষাৎ চারুকলায় অবদানের স্বীকৃতি: গুণীজন সম্মাননা পেলেন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সোসাইটি

আমি নিঃস্ব একজন মানুষ দুইবার হার্ট অ্যাটাকের পরও বেঁচে থাকার আকুতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৯৮

 

মোঃ নাসির উদ্দিন, গলাচিপা, পটুয়াখালী।

গলাচিপা উপজেলার ২নং গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের একটি নির্জন ঘর। ঘরের ভেতর নীরবে পড়ে আছেন ৫৬ বছর বয়সী মোঃ জাহাঙ্গীর মৃধা। একসময় যিনি মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন, শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, রাজনীতির মাঠে মানুষের জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন আজ সেই মানুষটিই অসুস্থ শরীর নিয়ে পড়ে আছেন অসহায় অবস্থায়।

জাহাঙ্গীর মৃধা উপজেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সময়ের নির্মম পরিহাস—আজ নিজের চিকিৎসার জন্যই তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।
জীবনে তিনি দুইবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন। শরীর দিন দিন ভেঙে পড়ছে। অসুস্থতা বাড়ছে, কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার মতো অর্থ নেই। ওষুধ কেনার টাকাটুকুও অনেক সময় জোগাড় হয় না।
গব
চিকিৎসার প্রয়োজন, কিন্তু পকেট শূন্য।
একদিকে অসুস্থ শরীরের যন্ত্রণা, অন্যদিকে একাকীত্বের বোঝা দুইয়ের ভার যেন তাঁকে প্রতিদিন একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

জাহাঙ্গীর মৃধার কাছে যখন তাঁর জীবনের কথা জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকেন।
চোখের কোণে জমে ওঠে পানি।

তারপর খুব কষ্ট করে বলেন
“আমার কেহই নাই। আমি নিঃস্ব একজন। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন আপনাদের মাঝে কোনো একরকম বেঁচে থাকতে পারি।গবগ
এই কথাগুলো কি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের কথা?

নাকি এটি একজন মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আকুতি?গ
যে মানুষটি একসময় মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বলেছেন, আজ তাঁর নিজের অধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার।

বাবা নেই, সন্তান নেই, স্ত্রী-পুত্রের মতো আপনজনের আশ্রয় নেই। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি যেন এক বিশাল শূন্যতার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন।
রাত গভীর হলে যখন চারপাশের মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে, তখন হয়তো জাহাঙ্গীর মৃধা একা একা নিজের বুকের ব্যথা অনুভব করেন। মনে হয় কাল যদি শরীরটা আরও খারাপ হয়, তাহলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে কে?
ওষুধ কিনে দেবে কে?
ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে কে?

আর যদি একদিন তাঁর হৃদস্পন্দন থেমে যায় তখন তাঁর কপালে শেষবারের মতো হাত রাখবে কে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো তাঁর নিজের কাছেও নেই।
তবুও তিনি বাঁচতে চান।

বড় কোনো চাওয়া তাঁর নেই। নেই বিলাসী জীবন, নেই অর্থ-সম্পদের আকাঙ্ক্ষা। শুধু চান কেউ একটু পাশে দাঁড়াক, চিকিৎসার ব্যবস্থা হোক, কয়েকটি দিন সুস্থভাবে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে পারেন।

মানুষ মানুষের জন্য—এই কথাটি কি আজও সত্যি নয়?

হয়তো আমাদের সামান্য সহযোগিতাই একজন অসহায় মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।

হয়তো কারও এক দিনের নাশতার টাকা দিয়ে তাঁর ওষুধ কেনা সম্ভব।

হয়তো কারও সামান্য আর্থিক সহযোগিতায়গব তিনি চিকিৎসকের কাছেগব যেতে পারবেন।

আর হয়তো আমাদের সম্মিলিত ভালোবাসা ও সহযোগিতাই জাহাঙ্গীর মৃধাকে আবারও জীবনের পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।

তাই আসুন, আমরা একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই।

রাজনীতি, মতাদর্শ কিংবা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের হাত ধরি।

জাহাঙ্গীর মৃধার আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন চিকিৎসা, সহানুভূতি এবং মানুষের ভালোবাসা।

যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়াতে চান, সহযোগিতা করতে চান অথবা সরাসরি তাঁর খোঁজ নিতে চান, যোগাযোগ করতে পারেন

📞 মোঃ জাহাঙ্গীর মৃধা
📱 মোবাইল: ০১৭১৭-১৯৯৩৯১

হয়তো আপনার একটি ফোনকল, আপনার সামান্য সহযোগিতা কিংবা আপনার একটি দোয়া একজন অসহায় মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার নতুন সাহস এনে দিতে পারে।

আল্লাহ যেন জাহাঙ্গীর মৃধাকে সুস্থতা দান করেন। তাঁর কষ্ট লাঘব করেন। আর সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের তাঁর পাশে দাঁড়ানোর তৌফিক দান করেন।

একজন মানুষের কান্না যেন আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়—
কারণ আজ তিনি অসহায়, কাল হয়তো আমরাও কারও সাহায্যের অপেক্ষায় থাকব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আমি নিঃস্ব একজন মানুষ দুইবার হার্ট অ্যাটাকের পরও বেঁচে থাকার আকুতি

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯৮

 

মোঃ নাসির উদ্দিন, গলাচিপা, পটুয়াখালী।

গলাচিপা উপজেলার ২নং গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের একটি নির্জন ঘর। ঘরের ভেতর নীরবে পড়ে আছেন ৫৬ বছর বয়সী মোঃ জাহাঙ্গীর মৃধা। একসময় যিনি মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন, শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, রাজনীতির মাঠে মানুষের জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন আজ সেই মানুষটিই অসুস্থ শরীর নিয়ে পড়ে আছেন অসহায় অবস্থায়।

জাহাঙ্গীর মৃধা উপজেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সময়ের নির্মম পরিহাস—আজ নিজের চিকিৎসার জন্যই তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।
জীবনে তিনি দুইবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন। শরীর দিন দিন ভেঙে পড়ছে। অসুস্থতা বাড়ছে, কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার মতো অর্থ নেই। ওষুধ কেনার টাকাটুকুও অনেক সময় জোগাড় হয় না।
গব
চিকিৎসার প্রয়োজন, কিন্তু পকেট শূন্য।
একদিকে অসুস্থ শরীরের যন্ত্রণা, অন্যদিকে একাকীত্বের বোঝা দুইয়ের ভার যেন তাঁকে প্রতিদিন একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

জাহাঙ্গীর মৃধার কাছে যখন তাঁর জীবনের কথা জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকেন।
চোখের কোণে জমে ওঠে পানি।

তারপর খুব কষ্ট করে বলেন
“আমার কেহই নাই। আমি নিঃস্ব একজন। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন আপনাদের মাঝে কোনো একরকম বেঁচে থাকতে পারি।গবগ
এই কথাগুলো কি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের কথা?

নাকি এটি একজন মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আকুতি?গ
যে মানুষটি একসময় মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বলেছেন, আজ তাঁর নিজের অধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার।

বাবা নেই, সন্তান নেই, স্ত্রী-পুত্রের মতো আপনজনের আশ্রয় নেই। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি যেন এক বিশাল শূন্যতার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন।
রাত গভীর হলে যখন চারপাশের মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে, তখন হয়তো জাহাঙ্গীর মৃধা একা একা নিজের বুকের ব্যথা অনুভব করেন। মনে হয় কাল যদি শরীরটা আরও খারাপ হয়, তাহলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে কে?
ওষুধ কিনে দেবে কে?
ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে কে?

আর যদি একদিন তাঁর হৃদস্পন্দন থেমে যায় তখন তাঁর কপালে শেষবারের মতো হাত রাখবে কে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো তাঁর নিজের কাছেও নেই।
তবুও তিনি বাঁচতে চান।

বড় কোনো চাওয়া তাঁর নেই। নেই বিলাসী জীবন, নেই অর্থ-সম্পদের আকাঙ্ক্ষা। শুধু চান কেউ একটু পাশে দাঁড়াক, চিকিৎসার ব্যবস্থা হোক, কয়েকটি দিন সুস্থভাবে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে পারেন।

মানুষ মানুষের জন্য—এই কথাটি কি আজও সত্যি নয়?

হয়তো আমাদের সামান্য সহযোগিতাই একজন অসহায় মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।

হয়তো কারও এক দিনের নাশতার টাকা দিয়ে তাঁর ওষুধ কেনা সম্ভব।

হয়তো কারও সামান্য আর্থিক সহযোগিতায়গব তিনি চিকিৎসকের কাছেগব যেতে পারবেন।

আর হয়তো আমাদের সম্মিলিত ভালোবাসা ও সহযোগিতাই জাহাঙ্গীর মৃধাকে আবারও জীবনের পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।

তাই আসুন, আমরা একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই।

রাজনীতি, মতাদর্শ কিংবা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের হাত ধরি।

জাহাঙ্গীর মৃধার আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন চিকিৎসা, সহানুভূতি এবং মানুষের ভালোবাসা।

যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়াতে চান, সহযোগিতা করতে চান অথবা সরাসরি তাঁর খোঁজ নিতে চান, যোগাযোগ করতে পারেন

📞 মোঃ জাহাঙ্গীর মৃধা
📱 মোবাইল: ০১৭১৭-১৯৯৩৯১

হয়তো আপনার একটি ফোনকল, আপনার সামান্য সহযোগিতা কিংবা আপনার একটি দোয়া একজন অসহায় মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার নতুন সাহস এনে দিতে পারে।

আল্লাহ যেন জাহাঙ্গীর মৃধাকে সুস্থতা দান করেন। তাঁর কষ্ট লাঘব করেন। আর সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের তাঁর পাশে দাঁড়ানোর তৌফিক দান করেন।

একজন মানুষের কান্না যেন আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়—
কারণ আজ তিনি অসহায়, কাল হয়তো আমরাও কারও সাহায্যের অপেক্ষায় থাকব।