টিফিনের অবশিষ্ট দুই রুটিকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে হামলার অভিযোগ, কর্মবিরতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ শিক্ষিত সমাজের ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ২০২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ নাসির উদ্দিন বিষেশ প্রতিনিধিঃ
গলাচিপা (পটুয়াখালী):
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের ওপর বিদ্যালয়ের টিফিনের অবশিষ্ট দুটি রুটিকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে কর্মবিরতিতে রাখার ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে টিফিন বিতরণ করেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিফিন বিতরণ শেষে অবশিষ্ট থাকা দুটি রুটি তিনি নিজের খাওয়ার জন্য নেন। স্কুল ছুটির পর বিদ্যালয়ের সামনেই কিছু ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “আমি কোনো শিক্ষার্থীর প্রাপ্য টিফিন থেকে কিছু নিইনি। সবার মাঝে টিফিন বিতরণের পর অবশিষ্ট থাকা দুটি রুটি নিয়েছিলাম।
অথচ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, “আলমগীর স্যার আমাদের খুবই প্রিয় শিক্ষক। তিনি প্রতিদিন সবার হাতে টিফিন পৌঁছে দেন। আমাদের কারও টিফিন বাকি থাকেনি।
স্যার অবশিষ্ট দুটি রুটি নিয়েছিলেন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু স্কুল ছুটির পর আমাদের সামনেই কিছু লোক স্যারের ওপর হামলা করে। আমরা হামলাকারীদের বিচার চাই এবং আমাদের প্রিয় স্যারকে আবার বিদ্যালয়ে ফিরে পেতে চাই।
গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বলেন, “যদি সত্যিই সামান্য দুটি অবশিষ্ট রুটিকে কেন্দ্র করে একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও হামলার শিকার হতে হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
একজন শিক্ষক জাতি গঠনের কারিগর। তিনি দিনভর পরিশ্রম করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। এমন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় শিক্ষিত সমাজের অনেকেই দাবি করেছেন, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পাশাপাশি, শিক্ষকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।


















