মোহসেনুদ্দিন নুরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসাকে ঘিরে পাল্টা অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষের দাবি—চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জমি দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে তদন্ত চাইলেন
- আপডেট সময় : ১০:৪৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ১২৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর মোহসেনুদ্দিন নুরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুদ্দীন আফসারী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জমি দখল, চুরি, মিথ্যা মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, সম্প্রতি নুরুদ্দীন আফসারী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেই অভিযোগের জবাব দিতেই তিনি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন।
লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ দাবি করেন, নুরুদ্দীন আফসারীর বাবা, প্রয়াত অধ্যক্ষ মাওলানা মহিউদ্দিন আফসারী জীবদ্দশায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই অর্থ ফেরত না দেওয়ায় মানবিক বিবেচনায় তিনি নিজ উদ্যোগে প্রায় ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৯০ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৬ জুলাই নুরুদ্দীন আফসারী তার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং এক কর্মচারীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ।
এছাড়া অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই তার অনুপস্থিতির সুযোগে নুরুদ্দীন আফসারী মাদ্রাসার কার্যালয়ে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, অফিস প্যাড এবং বিদ্যুতের তার নিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এতিমখানার নামে থাকা জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল, গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি ত্রাণের চাল বরাদ্দ এনে আত্মসাতের মতো কর্মকাণ্ডেও নুরুদ্দীন আফসারী জড়িত ছিলেন।
অধ্যক্ষ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে নুরুদ্দীন আফসারী বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ৩০ থেকে ৩৫টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একইভাবে মাদ্রাসার এক কর্মচারীর বিরুদ্ধেও নুরুদ্দীন আফসারী মিথ্যা মামলা করেছেন বলে দাবি করেন।
অধ্যক্ষ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি কখনো চাকরি দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেননি। বরং তার নাম ব্যবহার করে নুরুদ্দীন আফসারী বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে অধ্যক্ষ প্রশাসন, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে যোগ্যতা ও বিধি অনুসরণ করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে নুরুদ্দীন আফসারীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয় বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

















