ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
খুলনা আর্ট একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণশালায় শিক্ষার্থী চারুলতা ঢালীর অনন্য উপহার গোয়াইনঘাটে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত উপজেলা গঠনে অগ্রগতি সহভাগিতা সভা অনুষ্ঠিত কবিতাঃ যাত্রাপথে আতঙ্ক গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন: জমি রক্ষায় দুই গ্রামবাসীর মানববন্ধন খুলনা আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থী সপ্তসী রায় জন্মাষ্টমীর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন রাসুল (সা.)সুন্নাহ অনুসরণেই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত- সীরতুন্নবী মাহফিলের ১৬তম দিবসে বক্তারা তফসিলের আগেই দৌড়ঝাঁপ:ক্ষেতলাল, বড়াইলের চেয়ারম্যান হতে গ্রামবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন মুর্শিদ খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নবাগত উপপরিচালকের সঙ্গে সিইউসি পরিবারের সৌজন্য সাক্ষাৎ চারুকলায় অবদানের স্বীকৃতি: গুণীজন সম্মাননা পেলেন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সোসাইটি

দুই যুগ পর মিলিত খুলনা আর্ট কলেজ ২০০২ ব্যাচ আবেগ, স্মৃতি ও ভালোবাসায় মুখর পুনর্মিলনী-২০২৬

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ১১১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৮৩

 

খুলনা প্রতিনিধি:
দীর্ঘ দুই যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলনা আর্ট কলেজের ২০০২ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এক আবেগঘন পুনর্মিলনীতে মিলিত হয়েছেন। ব্যস্ত কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান পেরিয়ে আবারও এক ছাদের নিচে ফিরে পাওয়ার এই মুহূর্ত সবাইকে ফিরিয়ে নিয়েছিল ছাত্রজীবনের সেই রঙিন দিনগুলোতে।

জানা যায়, কয়েক দিন আগে প্রিয় সহপাঠী চিত্রশিল্পী হীরা বিশ্বাস একটি মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা সহপাঠীদের পুনরায় একত্রিত করার আন্তরিক উদ্যোগ নেন। অল্প কয়েকজন বাদে প্রায় সবাইকে সেই গ্রুপে যুক্ত করা সম্ভব হয়। সেই উদ্যোগ থেকেই জন্ম নেয় দীর্ঘ দুই যুগ পর সবাইকে নিয়ে একটি পুনর্মিলনীর ভাবনা।

এ সময় সহপাঠী সাবিনা রহমান ঋতু আন্তরিকভাবে বলেন, “আমি নতুন বাড়ি করেছি। তোরা সবাই যদি আমার বাড়িতে আসিস, আমি খুব খুশি হব।” তাঁর এই আন্তরিক আহ্বানেই ২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকেলে করিম নগর আলী হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সম্রাট লেন ২১/৪-এর ক নম্বর বাসভবনে পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়।

দীর্ঘ দুই যুগ পর একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সেই মুহূর্ত ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। শুরুতেই সবাই কুশল বিনিময় করেন, পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিজেদের বর্তমান জীবন, কর্মব্যস্ততা ও শারীরিক সুস্থতার কথা ভাগাভাগি করেন। উপস্থিত সবাই অনুভব করেন, যেন সময় আবার তাঁদের ছাত্রজীবনে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী চন্দ্রশেখর দাস, পরিবেশবান্ধব মৃৎশিল্প কেন্দ্র, তালা, সাতক্ষীরা; চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, খুলনা আর্ট একাডেমি; চিত্রশিল্পী হীরা বিশ্বাস, পিএইচডি, আমেরিকা; চিত্রশিল্পী সাবিনা রহমান ঋতু, সহকারী শিক্ষিকা, খুলনা কলেজিয়েট স্কুল, সোনাডাঙ্গা; চিত্রশিল্পী মেহেদি হাসান হিমু, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হিমালয় আর্ট একাডেমি; চিত্রশিল্পী এস পান্থ, পরিচালক, ক্যানভাস আর্ট একাডেমি এবং চিত্রশিল্পী শিরীন, সহকারী পরিচালক, ক্যানভাস আর্ট একাডেমি।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস উপস্থিত প্রতিটি সহপাঠীকে একটি করে গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে বিদেশে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসা সহপাঠী চিত্রশিল্পী হীরা বিশ্বাসকে উপস্থিত সবাই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস রচিত খুলনা আর্ট কলেজের স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও ছাত্রজীবনকে ঘিরে লেখা একটি নতুন গান। গানটি সাউন্ড সিস্টেমে উপস্থিত সবার জন্য পরিবেশন করা হয়। গানটির সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন প্রবীর শীল। গানটি শোনার পর উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে আন্তরিক প্রশংসা জানান এবং অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রাণবন্ত আড্ডা, হাসি-আনন্দ, স্মৃতিচারণ এবং সুস্বাদু আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে কেটে যায় এক অনন্য সময়। উপস্থিত সবার মতে, দিনটি তাঁদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস বলেন, বর্তমান সময়ে সবাই নিজ পরিবার, কর্মজীবন ও নানাবিধ দায়িত্ব নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত। সেই ব্যস্ততার মাঝেও যারা মূল্যবান সময় বের করে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁরাই এই মিলনমেলার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান সেইসব বন্ধুদের, যারা প্রতিকূল আবহাওয়া, ঝড় ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে নড়াইল ও সাতক্ষীরা থেকে ছুটে এসেছেন।

এই সুন্দর পুনর্মিলন আয়োজনের জন্য তিনি বিশেষভাবে চিত্রশিল্পী হীরা বিশ্বাস, সাবিনা রহমান ঋতু এবং দুলাভাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ঋতুর স্নেহের মেয়ে মামনি এ্যানার কথা। আন্তরিক আপ্যায়ন ও হাসিমাখা ব্যবহারে তিনি উপস্থিত সবার মন জয় করেছেন।

পুনর্মিলনী শেষে সবাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, বন্ধুত্বের এই অটুট বন্ধন আজীবন অম্লান থাকবে এবং এই পুনর্মিলনের রঙিন স্মৃতিগুলো হৃদয়ের ক্যানভাসে চিরকাল অঙ্কিত হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দুই যুগ পর মিলিত খুলনা আর্ট কলেজ ২০০২ ব্যাচ আবেগ, স্মৃতি ও ভালোবাসায় মুখর পুনর্মিলনী-২০২৬

আপডেট সময় : ১২:১৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
১৮৩

 

খুলনা প্রতিনিধি:
দীর্ঘ দুই যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলনা আর্ট কলেজের ২০০২ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এক আবেগঘন পুনর্মিলনীতে মিলিত হয়েছেন। ব্যস্ত কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান পেরিয়ে আবারও এক ছাদের নিচে ফিরে পাওয়ার এই মুহূর্ত সবাইকে ফিরিয়ে নিয়েছিল ছাত্রজীবনের সেই রঙিন দিনগুলোতে।

জানা যায়, কয়েক দিন আগে প্রিয় সহপাঠী চিত্রশিল্পী হীরা বিশ্বাস একটি মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা সহপাঠীদের পুনরায় একত্রিত করার আন্তরিক উদ্যোগ নেন। অল্প কয়েকজন বাদে প্রায় সবাইকে সেই গ্রুপে যুক্ত করা সম্ভব হয়। সেই উদ্যোগ থেকেই জন্ম নেয় দীর্ঘ দুই যুগ পর সবাইকে নিয়ে একটি পুনর্মিলনীর ভাবনা।

এ সময় সহপাঠী সাবিনা রহমান ঋতু আন্তরিকভাবে বলেন, “আমি নতুন বাড়ি করেছি। তোরা সবাই যদি আমার বাড়িতে আসিস, আমি খুব খুশি হব।” তাঁর এই আন্তরিক আহ্বানেই ২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকেলে করিম নগর আলী হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সম্রাট লেন ২১/৪-এর ক নম্বর বাসভবনে পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়।

দীর্ঘ দুই যুগ পর একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সেই মুহূর্ত ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। শুরুতেই সবাই কুশল বিনিময় করেন, পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিজেদের বর্তমান জীবন, কর্মব্যস্ততা ও শারীরিক সুস্থতার কথা ভাগাভাগি করেন। উপস্থিত সবাই অনুভব করেন, যেন সময় আবার তাঁদের ছাত্রজীবনে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী চন্দ্রশেখর দাস, পরিবেশবান্ধব মৃৎশিল্প কেন্দ্র, তালা, সাতক্ষীরা; চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, খুলনা আর্ট একাডেমি; চিত্রশিল্পী হীরা বিশ্বাস, পিএইচডি, আমেরিকা; চিত্রশিল্পী সাবিনা রহমান ঋতু, সহকারী শিক্ষিকা, খুলনা কলেজিয়েট স্কুল, সোনাডাঙ্গা; চিত্রশিল্পী মেহেদি হাসান হিমু, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হিমালয় আর্ট একাডেমি; চিত্রশিল্পী এস পান্থ, পরিচালক, ক্যানভাস আর্ট একাডেমি এবং চিত্রশিল্পী শিরীন, সহকারী পরিচালক, ক্যানভাস আর্ট একাডেমি।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস উপস্থিত প্রতিটি সহপাঠীকে একটি করে গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে বিদেশে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসা সহপাঠী চিত্রশিল্পী হীরা বিশ্বাসকে উপস্থিত সবাই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস রচিত খুলনা আর্ট কলেজের স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও ছাত্রজীবনকে ঘিরে লেখা একটি নতুন গান। গানটি সাউন্ড সিস্টেমে উপস্থিত সবার জন্য পরিবেশন করা হয়। গানটির সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন প্রবীর শীল। গানটি শোনার পর উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে আন্তরিক প্রশংসা জানান এবং অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রাণবন্ত আড্ডা, হাসি-আনন্দ, স্মৃতিচারণ এবং সুস্বাদু আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে কেটে যায় এক অনন্য সময়। উপস্থিত সবার মতে, দিনটি তাঁদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস বলেন, বর্তমান সময়ে সবাই নিজ পরিবার, কর্মজীবন ও নানাবিধ দায়িত্ব নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত। সেই ব্যস্ততার মাঝেও যারা মূল্যবান সময় বের করে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁরাই এই মিলনমেলার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান সেইসব বন্ধুদের, যারা প্রতিকূল আবহাওয়া, ঝড় ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে নড়াইল ও সাতক্ষীরা থেকে ছুটে এসেছেন।

এই সুন্দর পুনর্মিলন আয়োজনের জন্য তিনি বিশেষভাবে চিত্রশিল্পী হীরা বিশ্বাস, সাবিনা রহমান ঋতু এবং দুলাভাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ঋতুর স্নেহের মেয়ে মামনি এ্যানার কথা। আন্তরিক আপ্যায়ন ও হাসিমাখা ব্যবহারে তিনি উপস্থিত সবার মন জয় করেছেন।

পুনর্মিলনী শেষে সবাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, বন্ধুত্বের এই অটুট বন্ধন আজীবন অম্লান থাকবে এবং এই পুনর্মিলনের রঙিন স্মৃতিগুলো হৃদয়ের ক্যানভাসে চিরকাল অঙ্কিত হয়ে থাকবে।