ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, সুনামগঞ্জে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন ওসি রতন শেখ পিপিএম আমেরিকান প্রবাসী আনছারুল ইসলামের ফেইসবুক পোষ্ট নিয়ে বিব্রত উত্তরবঙ্গবাসী জনসেবার অঙ্গীকারে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিতে সমাজসেবক ও ইন্জিনিয়ার আহসানুল কবির আকন জগন্নাথপুরে ঘরজামাই ইমরান মোল্লার মিথ্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক ইয়াকুব মিয়া পটুয়াখালীতে বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা বাউফলে মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদকের কবর রচনা করতে হবে’ — ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ জনগণের সেবাই যার অঙ্গীকার: গোলখালীর ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী হাফেজ মোঃ সাইদুল ইসলাম একজন মহান শিক্ষকের বিদায় ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি দুমকিতে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা নিরাময়ে মুখে খাওয়ার নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ‘বিপিএএল/এম’ দেশব্যাপী সম্প্রসারণ ও বিকেন্দ্রীকরণে এনটিপি ও নারী মৈত্রীর যৌথ কৌশলগত জোট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩১

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য খাতে এক যুগান্তকারী মাইলফলক অর্জনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) আওতাধীন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (NTP) এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নারী মৈত্রী’র যৌথ উদ্যোগে আজ মহাখালীর এমবিডিসি/এনটিপি/ডিজিএইচএস কনফারেন্স রুমে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি অংশীজন পলিসি ইন্টারফেস সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গ্লোবাল অলাভজনক সংস্থা ‘টিবি অ্যালায়েন্স’ (TB Alliance)-এর একটি কমিউনিটি-ভিত্তিক অ্যাডভোকেসি উদ্যোগ “ফাস্ট ট্র্যাক দ্য কিউর” (FTTC)-এর আওতায় এই উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয় সভায় নীতিনির্ধারক, বিশেষায়িত চিকিৎসা খাতের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সুপারভাইজার এবং যক্ষ্মা জয়ী সারভাইভাররা অংশ নেন। এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অর্জিত সফলতাকে সংহত করা এবং ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা রোগীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ও মাত্র ৬ মাসের মুখে খাওয়ার সংক্ষিপ্ত চিকিৎসা পদ্ধতি ‘বিপিএএল’ (BPaL – Bedaquiline + Pretomanid + Linezolid) এবং ‘বিপিএএলএম’ (BPaLM – Moxifloxacin সহ) রেজিমেনের দেশব্যাপী সম্প্রসারণ ও বিকেন্দ্রীকরণের একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রস্তুত করা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মাইকোব্যাকটেরিয়াল ডিজিজ কন্ট্রোল (MBDC)-এর পরিচালক ও এনটিপি-এর ইন-চার্জ ড. মোহাম্মদ শাহারিার সাজ্জাদ বলেন, “বাংলাদেশ যক্ষ্মা নির্মূলে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চিকিৎসাকাল দীর্ঘ ২০ মাস থেকে কমিয়ে মাত্র ৬ মাসে নামিয়ে এনে ইনজেকশনবিহীন এই বিপিএএল/এম রেজিমেনের দেশব্যাপী সম্প্রসারণ আমাদের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কৌশলের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আমরা অতীতের ক্ষতিকারক ও দীর্ঘমেয়াদী ইনজেকশনভিত্তিক প্রোটোকল থেকে সরে এসে মানবিক ও রোগী-কেন্দ্রিক সেবার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা অত্যন্ত গর্বের সাথে জানাচ্ছি যে, নারী মৈত্রীর কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন ও পিয়ার-সাপোর্ট মডেলটিকে আমরা আসন্ন ‘৭ম জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা ও পরিচালন ম্যানুয়াল’-এ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছি।”

পরামর্শ সভায় নারী মৈত্রীর ১,০০৭ জন উত্তরদাতার ওপর পরিচালিত বেইজলাইন কেএপি (KAP) জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়, যা দেখায় যে কার্যক্রম শুরুর আগে বস্তি এলাকার মাত্র ১৪% মানুষ এই আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানতেন এবং সামাজিক কুসংস্কারের হার ছিল প্রায় ৬২%। তবে এফটিটিসি (FTTC) উদ্যোগের অধীনে নারী মৈত্রী তাদের প্রশিক্ষিত ‘বিপিএএল/এম অ্যাম্বাসেডর’ এবং কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপের (CSG) বিশেষায়িত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকায় রেকর্ড ৯৮.৩৩% চিকিৎসার ধারাবাহিকতা (Adherence Rate) বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

টিবি অ্যালায়েন্সের মার্কেট অ্যাক্সেস ম্যানেজার এবং এফটিটিসি (FTTC) লিড অক্ষয় পাতিল দেশের ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা (DR-TB) স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে টিবি অ্যালায়েন্স এবং বাংলাদেশের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন। তিনি বিপিএএলএম এবং ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির (Capacity Building) সুযোগগুলোর ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেন। একই সাথে তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে, রোগীর চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে, সেবা গ্রহণের বাধাগুলো দূর করতে এবং সামগ্রিক ডিআর-টিবি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বা সামাজিক সম্পৃক্ততার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NIDCH)-এর পরিচালক ড. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া বিশেষায়িত চিকিৎসা হাসপাতালের সাথে মাঠপর্যায়ের এই সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “সংক্ষিপ্ত ও অত্যন্ত শক্তিশালী এই নতুন রেজিমেনে রোগীদের সুরক্ষায় ‘অ্যাক্টিভ ড্রাগ সেফটি মনিটরিং’ (aDSM) নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা জরুরি। নারী মৈত্রীর মাঠকর্মীরা আমাদের বর্ধিত ক্লিনিক্যাল হাত হিসেবে কাজ করছেন, যারা ডিজিটাল অ্যাপ ‘ওয়ানইমপ্যাক্ট’ (OneImpact) ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীর দোরগোড়ায় ওষুধের প্রাথমিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। এটি আমাদের চিকিৎসকদের দ্রুত ও নিরাপদে ডোজ সমন্বয় করে চিকিৎসায় কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করছে।”

ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী বক্তব্যে নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার চৌধুরী ডলি এনটিপি-এর ডিআর-টিবি (DR-TB), এমঅ্যান্ডই (M&E) এবং এমআইএস (MIS) বিভাগের প্রতি তাদের চমৎকার সমন্বয়ের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে আমাদের ২৬ বছরেরও বেশি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক আবিষ্কার তখনই মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে যখন তার সাথে স্থানীয় মানবিক সহানুভূতি ও সামাজিক সমর্থন যুক্ত হয়। সরকারের এই দৃঢ় অংশীদারিত্ব এবং টিবি অ্যালায়েন্সের সহায়তায় আমরা আমাদের এই সফল নগর মডেলটিকে সারা বাংলাদেশে একটি জাতীয় বাস্তবতায় রূপান্তর করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা নিরাময়ে মুখে খাওয়ার নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ‘বিপিএএল/এম’ দেশব্যাপী সম্প্রসারণ ও বিকেন্দ্রীকরণে এনটিপি ও নারী মৈত্রীর যৌথ কৌশলগত জোট

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
৩১

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য খাতে এক যুগান্তকারী মাইলফলক অর্জনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) আওতাধীন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (NTP) এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নারী মৈত্রী’র যৌথ উদ্যোগে আজ মহাখালীর এমবিডিসি/এনটিপি/ডিজিএইচএস কনফারেন্স রুমে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি অংশীজন পলিসি ইন্টারফেস সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গ্লোবাল অলাভজনক সংস্থা ‘টিবি অ্যালায়েন্স’ (TB Alliance)-এর একটি কমিউনিটি-ভিত্তিক অ্যাডভোকেসি উদ্যোগ “ফাস্ট ট্র্যাক দ্য কিউর” (FTTC)-এর আওতায় এই উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয় সভায় নীতিনির্ধারক, বিশেষায়িত চিকিৎসা খাতের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সুপারভাইজার এবং যক্ষ্মা জয়ী সারভাইভাররা অংশ নেন। এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অর্জিত সফলতাকে সংহত করা এবং ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা রোগীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ও মাত্র ৬ মাসের মুখে খাওয়ার সংক্ষিপ্ত চিকিৎসা পদ্ধতি ‘বিপিএএল’ (BPaL – Bedaquiline + Pretomanid + Linezolid) এবং ‘বিপিএএলএম’ (BPaLM – Moxifloxacin সহ) রেজিমেনের দেশব্যাপী সম্প্রসারণ ও বিকেন্দ্রীকরণের একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রস্তুত করা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মাইকোব্যাকটেরিয়াল ডিজিজ কন্ট্রোল (MBDC)-এর পরিচালক ও এনটিপি-এর ইন-চার্জ ড. মোহাম্মদ শাহারিার সাজ্জাদ বলেন, “বাংলাদেশ যক্ষ্মা নির্মূলে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চিকিৎসাকাল দীর্ঘ ২০ মাস থেকে কমিয়ে মাত্র ৬ মাসে নামিয়ে এনে ইনজেকশনবিহীন এই বিপিএএল/এম রেজিমেনের দেশব্যাপী সম্প্রসারণ আমাদের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কৌশলের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আমরা অতীতের ক্ষতিকারক ও দীর্ঘমেয়াদী ইনজেকশনভিত্তিক প্রোটোকল থেকে সরে এসে মানবিক ও রোগী-কেন্দ্রিক সেবার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা অত্যন্ত গর্বের সাথে জানাচ্ছি যে, নারী মৈত্রীর কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন ও পিয়ার-সাপোর্ট মডেলটিকে আমরা আসন্ন ‘৭ম জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা ও পরিচালন ম্যানুয়াল’-এ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছি।”

পরামর্শ সভায় নারী মৈত্রীর ১,০০৭ জন উত্তরদাতার ওপর পরিচালিত বেইজলাইন কেএপি (KAP) জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়, যা দেখায় যে কার্যক্রম শুরুর আগে বস্তি এলাকার মাত্র ১৪% মানুষ এই আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানতেন এবং সামাজিক কুসংস্কারের হার ছিল প্রায় ৬২%। তবে এফটিটিসি (FTTC) উদ্যোগের অধীনে নারী মৈত্রী তাদের প্রশিক্ষিত ‘বিপিএএল/এম অ্যাম্বাসেডর’ এবং কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপের (CSG) বিশেষায়িত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকায় রেকর্ড ৯৮.৩৩% চিকিৎসার ধারাবাহিকতা (Adherence Rate) বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

টিবি অ্যালায়েন্সের মার্কেট অ্যাক্সেস ম্যানেজার এবং এফটিটিসি (FTTC) লিড অক্ষয় পাতিল দেশের ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা (DR-TB) স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে টিবি অ্যালায়েন্স এবং বাংলাদেশের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন। তিনি বিপিএএলএম এবং ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির (Capacity Building) সুযোগগুলোর ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেন। একই সাথে তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে, রোগীর চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে, সেবা গ্রহণের বাধাগুলো দূর করতে এবং সামগ্রিক ডিআর-টিবি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বা সামাজিক সম্পৃক্ততার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NIDCH)-এর পরিচালক ড. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া বিশেষায়িত চিকিৎসা হাসপাতালের সাথে মাঠপর্যায়ের এই সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “সংক্ষিপ্ত ও অত্যন্ত শক্তিশালী এই নতুন রেজিমেনে রোগীদের সুরক্ষায় ‘অ্যাক্টিভ ড্রাগ সেফটি মনিটরিং’ (aDSM) নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা জরুরি। নারী মৈত্রীর মাঠকর্মীরা আমাদের বর্ধিত ক্লিনিক্যাল হাত হিসেবে কাজ করছেন, যারা ডিজিটাল অ্যাপ ‘ওয়ানইমপ্যাক্ট’ (OneImpact) ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীর দোরগোড়ায় ওষুধের প্রাথমিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। এটি আমাদের চিকিৎসকদের দ্রুত ও নিরাপদে ডোজ সমন্বয় করে চিকিৎসায় কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করছে।”

ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী বক্তব্যে নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার চৌধুরী ডলি এনটিপি-এর ডিআর-টিবি (DR-TB), এমঅ্যান্ডই (M&E) এবং এমআইএস (MIS) বিভাগের প্রতি তাদের চমৎকার সমন্বয়ের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে আমাদের ২৬ বছরেরও বেশি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক আবিষ্কার তখনই মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে যখন তার সাথে স্থানীয় মানবিক সহানুভূতি ও সামাজিক সমর্থন যুক্ত হয়। সরকারের এই দৃঢ় অংশীদারিত্ব এবং টিবি অ্যালায়েন্সের সহায়তায় আমরা আমাদের এই সফল নগর মডেলটিকে সারা বাংলাদেশে একটি জাতীয় বাস্তবতায় রূপান্তর করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”