ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আমেরিকান প্রবাসী আনছারুল ইসলামের ফেইসবুক পোষ্ট নিয়ে বিব্রত উত্তরবঙ্গবাসী জনসেবার অঙ্গীকারে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিতে সমাজসেবক ও ইন্জিনিয়ার আহসানুল কবির আকন জগন্নাথপুরে ঘরজামাই ইমরান মোল্লার মিথ্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক ইয়াকুব মিয়া পটুয়াখালীতে বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা বাউফলে মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদকের কবর রচনা করতে হবে’ — ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ জনগণের সেবাই যার অঙ্গীকার: গোলখালীর ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী হাফেজ মোঃ সাইদুল ইসলাম একজন মহান শিক্ষকের বিদায় ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি দুমকিতে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার মোহসেনুদ্দিন নুরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসাকে ঘিরে পাল্টা অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষের দাবি—চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জমি দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে তদন্ত চাইলেন

পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন রেজা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ২২৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৬১

 

মোঃ নুর ইসলাম মৃধা:

পটুয়াখালী জেলা যুবদলের নতুন কমিটি শিগগিরই ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য এ কমিটিকে ঘিরে সভাপতি পদে বিভিন্ন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও তৃণমূলের একাংশের কাছে অন্যতম আলোচিত নাম সদ্য সাবেক জেলা যুবদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতি এবং পটুয়াখালী স্পেশাল দায়রা জজ আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন রেজা।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন রেজার দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। সে সময় তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার বৃহত্তর কমলাপুর (বর্তমানে ভুরিয়া ও কমলাপুর ইউনিয়ন) ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে কমলাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং ১৯৯০ সালে কমলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ১৯৯৩ সালে তিনি পটুয়াখালী জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল এবং ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি পটুয়াখালী সদর থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক এবং পরে পটুয়াখালী জেলা যুবদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলাপাড়া থানা যুবদল, কলাপাড়া পৌর যুবদল, মহিপুর থানা যুবদল এবং কুয়াকাটা পৌর যুবদলের কমিটি গঠনে টিম লিডারের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করে কমিটি গঠনের ঘটনাগুলো ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতিতে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি পটুয়াখালী স্পেশাল দায়রা জজ আদালতের স্পেশাল পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়েন। তার বাড়ি, পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আইনজীবী চেম্বারে একাধিকবার হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এছাড়া বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং বিভিন্ন মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দলীয় নেতারা জানান।

দলীয় নেতাকর্মীদের আরও দাবি, ২০০০ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর রাজনৈতিক মামলা বিনা পারিশ্রমিকে কিংবা নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে পরিচালনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।

পটুয়াখালী জেলা যুবদলের তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, “অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন রেজা দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা। তিনি সভাপতি নির্বাচিত হলে জেলা যুবদল আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তিনি সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সবসময় কঠোর অবস্থানে ছিলেন। তাই নতুন কমিটিতে তাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চাই।”

তবে জেলা যুবদলের নতুন কমিটি বা সভাপতি পদে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা বিরাজ করছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন রেজা

আপডেট সময় : ১২:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
২৬১

 

মোঃ নুর ইসলাম মৃধা:

পটুয়াখালী জেলা যুবদলের নতুন কমিটি শিগগিরই ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য এ কমিটিকে ঘিরে সভাপতি পদে বিভিন্ন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও তৃণমূলের একাংশের কাছে অন্যতম আলোচিত নাম সদ্য সাবেক জেলা যুবদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতি এবং পটুয়াখালী স্পেশাল দায়রা জজ আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন রেজা।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন রেজার দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। সে সময় তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার বৃহত্তর কমলাপুর (বর্তমানে ভুরিয়া ও কমলাপুর ইউনিয়ন) ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে কমলাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং ১৯৯০ সালে কমলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ১৯৯৩ সালে তিনি পটুয়াখালী জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল এবং ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি পটুয়াখালী সদর থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক এবং পরে পটুয়াখালী জেলা যুবদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলাপাড়া থানা যুবদল, কলাপাড়া পৌর যুবদল, মহিপুর থানা যুবদল এবং কুয়াকাটা পৌর যুবদলের কমিটি গঠনে টিম লিডারের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করে কমিটি গঠনের ঘটনাগুলো ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতিতে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি পটুয়াখালী স্পেশাল দায়রা জজ আদালতের স্পেশাল পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়েন। তার বাড়ি, পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আইনজীবী চেম্বারে একাধিকবার হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এছাড়া বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং বিভিন্ন মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দলীয় নেতারা জানান।

দলীয় নেতাকর্মীদের আরও দাবি, ২০০০ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর রাজনৈতিক মামলা বিনা পারিশ্রমিকে কিংবা নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে পরিচালনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।

পটুয়াখালী জেলা যুবদলের তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, “অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন রেজা দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা। তিনি সভাপতি নির্বাচিত হলে জেলা যুবদল আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তিনি সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সবসময় কঠোর অবস্থানে ছিলেন। তাই নতুন কমিটিতে তাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চাই।”

তবে জেলা যুবদলের নতুন কমিটি বা সভাপতি পদে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা বিরাজ করছে।