ঢাকা ০৬:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
খুলনা আর্ট একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণশালায় শিক্ষার্থী চারুলতা ঢালীর অনন্য উপহার গোয়াইনঘাটে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত উপজেলা গঠনে অগ্রগতি সহভাগিতা সভা অনুষ্ঠিত কবিতাঃ যাত্রাপথে আতঙ্ক গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন: জমি রক্ষায় দুই গ্রামবাসীর মানববন্ধন খুলনা আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থী সপ্তসী রায় জন্মাষ্টমীর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন রাসুল (সা.)সুন্নাহ অনুসরণেই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত- সীরতুন্নবী মাহফিলের ১৬তম দিবসে বক্তারা তফসিলের আগেই দৌড়ঝাঁপ:ক্ষেতলাল, বড়াইলের চেয়ারম্যান হতে গ্রামবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন মুর্শিদ খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নবাগত উপপরিচালকের সঙ্গে সিইউসি পরিবারের সৌজন্য সাক্ষাৎ চারুকলায় অবদানের স্বীকৃতি: গুণীজন সম্মাননা পেলেন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সোসাইটি

স্বামীর সামর্থ্য বুঝে চলা স্ত্রী: সংসারের শান্তি, ভালোবাসা ও বরকতের ভিত্তি – কলমেঃ মোঃ নুর ইসলাম মৃধা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৫০

 

লেখক: মোঃ নুর ইসলাম মৃধা
কলামিস্ট ও লেখক।

সংসার শুধু একটি ছাদের নিচে বসবাসের নাম নয়; এটি পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ, ত্যাগ ও সহযোগিতার এক সুন্দর বন্ধন। এই বন্ধনকে টিকিয়ে রাখতে যেমন স্বামীর কর্তব্য রয়েছে, তেমনি স্ত্রীরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। একজন উত্তম জীবনসঙ্গী সেই, যিনি পরিবারের বাস্তবতা বুঝে চলেন, স্বামীর আয়-রোজগারের সামর্থ্য বিবেচনা করেন এবং অযৌক্তিক চাহিদার পরিবর্তে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেন।

যে স্ত্রী স্বামীর সীমিত আয় জেনেও অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতার দাবি করেন না, বরং যা আছে তা নিয়েই সুখে থাকার চেষ্টা করেন, তিনি শুধু একজন ভালো স্ত্রী নন—তিনি পরিবারের শক্তি, সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস। এমন স্ত্রীর কারণে একজন স্বামী মানসিক প্রশান্তি পান, কর্মক্ষেত্রে আরও মনোযোগী হতে পারেন এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার সাহস অর্জন করেন।

অন্যদিকে, আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন চাহিদা, অযথা তুলনা, বিলাসিতার প্রতিযোগিতা এবং অহেতুক অভিযোগ সংসারে অশান্তি ডেকে আনে। এতে শুধু অর্থনৈতিক চাপই বাড়ে না, বরং দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তাই সুখী সংসারের জন্য প্রয়োজন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।

ধৈর্য এমন একটি গুণ, যা কঠিন সময়কে সহজ করে তোলে। জীবনের প্রতিটি সময় একরকম যায় না। কখনো আর্থিক সংকট আসে, কখনো ব্যবসায় ক্ষতি হয়, কখনো চাকরি হারানোর মতো কঠিন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। এমন সময়ে যে স্ত্রী স্বামীর পাশে দাঁড়ান, সাহস দেন এবং বলেন—“চিন্তা করো না, আমরা একসঙ্গে সব সামলে নেব”—তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন আদর্শ জীবনসঙ্গী।

ইসলামী শিক্ষাতেও স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সহযোগিতা, সংযম ও ধৈর্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উভয়েরই উচিত একে অপরের অধিকার রক্ষা করা, সামর্থ্যের বাইরে চাপ সৃষ্টি না করা এবং আল্লাহ তাআলার দেওয়া রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট থাকা। সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত শান্তি।

তবে এটিও মনে রাখা জরুরি যে, সংসারের দায়িত্ব কেবল স্ত্রীর ওপর নয়। স্বামীরও কর্তব্য হলো নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার আন্তরিক চেষ্টা করা, স্ত্রীকে সম্মান করা, তার প্রয়োজন ও অনুভূতির মূল্য দেওয়া এবং ভালোবাসা ও ন্যায়ের সঙ্গে সংসার পরিচালনা করা। সুখী দাম্পত্য সবসময়ই উভয়ের পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতার ফল।

সুখী সংসারের মাপকাঠি দামি আসবাব, বিলাসবহুল জীবন বা বিপুল অর্থসম্পদ নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া, ধৈর্য এবং ভালোবাসা। যে দম্পতি একে অপরের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতাকে সম্মান করেন, তাদের সংসারেই প্রকৃত সুখ, শান্তি ও বরকত নেমে আসে।

একজন ধৈর্যশীল, সহানুভূতিশীল ও বাস্তবতাবোধসম্পন্ন স্ত্রী যেমন একজন স্বামীর জন্য অমূল্য সম্পদ, তেমনি একজন দায়িত্বশীল, স্নেহশীল ও বিশ্বস্ত স্বামীও একজন স্ত্রীর সবচেয়ে বড় আশ্রয়। পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান এবং আল্লাহর ওপর ভরসার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে একটি আদর্শ পরিবার, আর সেই পরিবারই একটি সুন্দর সমাজের ভিত্তি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্বামীর সামর্থ্য বুঝে চলা স্ত্রী: সংসারের শান্তি, ভালোবাসা ও বরকতের ভিত্তি – কলমেঃ মোঃ নুর ইসলাম মৃধা

আপডেট সময় : ১১:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
১৫০

 

লেখক: মোঃ নুর ইসলাম মৃধা
কলামিস্ট ও লেখক।

সংসার শুধু একটি ছাদের নিচে বসবাসের নাম নয়; এটি পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ, ত্যাগ ও সহযোগিতার এক সুন্দর বন্ধন। এই বন্ধনকে টিকিয়ে রাখতে যেমন স্বামীর কর্তব্য রয়েছে, তেমনি স্ত্রীরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। একজন উত্তম জীবনসঙ্গী সেই, যিনি পরিবারের বাস্তবতা বুঝে চলেন, স্বামীর আয়-রোজগারের সামর্থ্য বিবেচনা করেন এবং অযৌক্তিক চাহিদার পরিবর্তে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেন।

যে স্ত্রী স্বামীর সীমিত আয় জেনেও অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতার দাবি করেন না, বরং যা আছে তা নিয়েই সুখে থাকার চেষ্টা করেন, তিনি শুধু একজন ভালো স্ত্রী নন—তিনি পরিবারের শক্তি, সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস। এমন স্ত্রীর কারণে একজন স্বামী মানসিক প্রশান্তি পান, কর্মক্ষেত্রে আরও মনোযোগী হতে পারেন এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার সাহস অর্জন করেন।

অন্যদিকে, আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন চাহিদা, অযথা তুলনা, বিলাসিতার প্রতিযোগিতা এবং অহেতুক অভিযোগ সংসারে অশান্তি ডেকে আনে। এতে শুধু অর্থনৈতিক চাপই বাড়ে না, বরং দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তাই সুখী সংসারের জন্য প্রয়োজন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।

ধৈর্য এমন একটি গুণ, যা কঠিন সময়কে সহজ করে তোলে। জীবনের প্রতিটি সময় একরকম যায় না। কখনো আর্থিক সংকট আসে, কখনো ব্যবসায় ক্ষতি হয়, কখনো চাকরি হারানোর মতো কঠিন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। এমন সময়ে যে স্ত্রী স্বামীর পাশে দাঁড়ান, সাহস দেন এবং বলেন—“চিন্তা করো না, আমরা একসঙ্গে সব সামলে নেব”—তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন আদর্শ জীবনসঙ্গী।

ইসলামী শিক্ষাতেও স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সহযোগিতা, সংযম ও ধৈর্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উভয়েরই উচিত একে অপরের অধিকার রক্ষা করা, সামর্থ্যের বাইরে চাপ সৃষ্টি না করা এবং আল্লাহ তাআলার দেওয়া রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট থাকা। সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত শান্তি।

তবে এটিও মনে রাখা জরুরি যে, সংসারের দায়িত্ব কেবল স্ত্রীর ওপর নয়। স্বামীরও কর্তব্য হলো নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার আন্তরিক চেষ্টা করা, স্ত্রীকে সম্মান করা, তার প্রয়োজন ও অনুভূতির মূল্য দেওয়া এবং ভালোবাসা ও ন্যায়ের সঙ্গে সংসার পরিচালনা করা। সুখী দাম্পত্য সবসময়ই উভয়ের পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতার ফল।

সুখী সংসারের মাপকাঠি দামি আসবাব, বিলাসবহুল জীবন বা বিপুল অর্থসম্পদ নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া, ধৈর্য এবং ভালোবাসা। যে দম্পতি একে অপরের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতাকে সম্মান করেন, তাদের সংসারেই প্রকৃত সুখ, শান্তি ও বরকত নেমে আসে।

একজন ধৈর্যশীল, সহানুভূতিশীল ও বাস্তবতাবোধসম্পন্ন স্ত্রী যেমন একজন স্বামীর জন্য অমূল্য সম্পদ, তেমনি একজন দায়িত্বশীল, স্নেহশীল ও বিশ্বস্ত স্বামীও একজন স্ত্রীর সবচেয়ে বড় আশ্রয়। পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান এবং আল্লাহর ওপর ভরসার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে একটি আদর্শ পরিবার, আর সেই পরিবারই একটি সুন্দর সমাজের ভিত্তি।