ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
খুলনা আর্ট একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণশালায় শিক্ষার্থী চারুলতা ঢালীর অনন্য উপহার গোয়াইনঘাটে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত উপজেলা গঠনে অগ্রগতি সহভাগিতা সভা অনুষ্ঠিত কবিতাঃ যাত্রাপথে আতঙ্ক গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন: জমি রক্ষায় দুই গ্রামবাসীর মানববন্ধন খুলনা আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থী সপ্তসী রায় জন্মাষ্টমীর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন রাসুল (সা.)সুন্নাহ অনুসরণেই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত- সীরতুন্নবী মাহফিলের ১৬তম দিবসে বক্তারা তফসিলের আগেই দৌড়ঝাঁপ:ক্ষেতলাল, বড়াইলের চেয়ারম্যান হতে গ্রামবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন মুর্শিদ খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নবাগত উপপরিচালকের সঙ্গে সিইউসি পরিবারের সৌজন্য সাক্ষাৎ চারুকলায় অবদানের স্বীকৃতি: গুণীজন সম্মাননা পেলেন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সোসাইটি

আইন উপেক্ষা করে দাপটের সঙ্গে পদ ধরে রেখেছেন শহীদবাগ ইউপি চেয়ারম্যান; স্থানীয়দের ক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ১২৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২১৭

 

নিজস্ব সংবাদদাতা:,

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৪ নম্বর শহীদবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, দীর্ঘ সময় কারাভোগ এবং টানা অনুপস্থিতির পরও প্রভাব খাটিয়ে চেয়ারম্যানের দাপট বজায় রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্মারক নং–৮৭৯ ও ১০২৮–এর তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকায় এবং তিনি ইউনিয়ন পরিষদের ধারাবাহিক তিনটি মাসিক সাধারণ সভায় অনুপস্থিত থাকায় স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব পালনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে মো. ফারুক হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মো. আনোয়ারুল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে আব্দুল হান্নান আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়েছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ও স্থানীয় প্রশাসনিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। যদিও প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব অন্যদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে, তবুও বাস্তবে তাঁর প্রভাব অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান হিসেবে আব্দুল হান্নানের প্রভাব কমেনি। এতে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, ফৌজদারি মামলার একজন আসামি এবং দীর্ঘ সময় পরিষদের সভায় অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি এখনও এলাকায় চেয়ারম্যানের প্রভাব বজায় রাখছেন। তাঁদের মতে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

এ বিষয়ে আব্দুল হান্নানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি স্থানীয় সরকার আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আইন উপেক্ষা করে দাপটের সঙ্গে পদ ধরে রেখেছেন শহীদবাগ ইউপি চেয়ারম্যান; স্থানীয়দের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০১:১৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
২১৭

 

নিজস্ব সংবাদদাতা:,

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৪ নম্বর শহীদবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, দীর্ঘ সময় কারাভোগ এবং টানা অনুপস্থিতির পরও প্রভাব খাটিয়ে চেয়ারম্যানের দাপট বজায় রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্মারক নং–৮৭৯ ও ১০২৮–এর তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকায় এবং তিনি ইউনিয়ন পরিষদের ধারাবাহিক তিনটি মাসিক সাধারণ সভায় অনুপস্থিত থাকায় স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব পালনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে মো. ফারুক হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মো. আনোয়ারুল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে আব্দুল হান্নান আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়েছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ও স্থানীয় প্রশাসনিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। যদিও প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব অন্যদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে, তবুও বাস্তবে তাঁর প্রভাব অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান হিসেবে আব্দুল হান্নানের প্রভাব কমেনি। এতে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, ফৌজদারি মামলার একজন আসামি এবং দীর্ঘ সময় পরিষদের সভায় অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি এখনও এলাকায় চেয়ারম্যানের প্রভাব বজায় রাখছেন। তাঁদের মতে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

এ বিষয়ে আব্দুল হান্নানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি স্থানীয় সরকার আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।