গুরুর ছায়ায় শিষ্যের পথচলা
- আপডেট সময় : ০২:৪৫:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৬১ বার পড়া হয়েছে

লেখক মোঃ নাসির উদ্দিন, গলাচিপা পটুয়াখালী।
জীবনের পথ কখনো সরল নয়। কখনো সেখানে রোদ, কখনো ঝড়, কখনো অন্ধকার রাত। মানুষ যখন পথ হারিয়ে ফেলে, তখন একজন সত্যিকারের গুরু হয়ে ওঠেন সেই প্রদীপ যাঁর আলোয় শিষ্য আবার নিজের পথ খুঁজে পায়।
একদিন এক শিষ্য গভীর কষ্ট নিয়ে গুরুর কাছে এসে বলল,
গুরুজি, আমি বারবার হেরে যাচ্ছি। যত চেষ্টা করি, ততই মনে হয় জীবন আমাকে পিছনে ঠেলে দিচ্ছে।
গুরু মৃদু হেসে বললেন,
তুমি কি কখনো নদীকে দেখেছ? নদী যখন পাথরের সামনে পড়ে, তখন কি থেমে যায়?
শিষ্য মাথা নিচু করে বলল,
না গুরুজি, নদী তো পথ বদলে নেয়।
গুরু বললেন,
ঠিক তাই। জীবনেও পাথর আসবে, বাধা আসবে, মানুষ তোমাকে ভুল বুঝবে। কিন্তু তুমি যদি থেমে যাও, তবে তোমার যাত্রা সেখানেই শেষ। আর যদি ধৈর্য ধরো, তবে একদিন সেই বাধাকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে।
শিষ্যের চোখে তখন অশ্রু।
সে বুঝতে পারল গুরু শুধু তাকে কথা শেখাচ্ছেন না, তাঁকে জীবন বুঝতে শেখাচ্ছেন।
দিনের পর দিন শিষ্য গুরুর সান্নিধ্যে থাকল। কখনো গুরু তাকে কঠিন কথা বললেন, কখনো নীরব রইলেন, আবার কখনো ভুলের জন্য শাসন করলেন। তখন শিষ্যের মনে অভিমান হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সে বুঝল গুরুর প্রতিটি কঠিন কথার আড়ালেই ছিল ভালোবাসা, প্রতিটি শাসনের পেছনে ছিল মঙ্গল কামনা।
একদিন শিষ্য বলল,
গুরুজি, আপনি আমাকে এত কিছু দিয়েছেন, আমি আপনাকে কী দিতে পারি?
গুরু আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে বললেন,
আমাকে কিছু দিতে হবে না। শুধু মনে রেখো—তুমি যখন নিজের জীবনে আলো হয়ে উঠবে, তখন সেই আলো অন্য একজন পথহারা মানুষের হাতে তুলে দিও। এটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।
শিষ্য তখন গুরুর পায়ের কাছে মাথা রেখে নীরবে কাঁদতে লাগল।
কারণ সে বুঝে গিয়েছিল গুরু মানে শুধু একজন শিক্ষক নন। গুরু মানে অন্ধকারে আশ্রয়, বিপদের দিনে সাহস, ভুলের সময়ে সংশোধন, আর ভেঙে পড়ার মুহূর্তে বুকের ভেতর নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি।
জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও একজন সত্যিকারের শিষ্য তাই গুরুকে ভুলতে পারে না। কারণ পৃথিবীর অনেক মানুষ জীবনে আসে, আবার চলে যায়; কিন্তু একজন সত্যিকারের গুরু হৃদয়ের ভেতরে এমন একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়ে যান, যার আলো কখনো নিভে যায় না।
গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা মানে শুধু মাথা নত করা নয় গুরুর শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে সৎ পথে চলাই হলো প্রকৃত শিষ্যত্ব।
পর্ব,,,,(১) এক,,
লেখকঃ মোঃ নাসির উদ্দিন,, গলাচিপা,, পটুয়াখালী।










