ঢাকা ০৩:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
খুলনা আর্ট একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণশালায় শিক্ষার্থী চারুলতা ঢালীর অনন্য উপহার গোয়াইনঘাটে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত উপজেলা গঠনে অগ্রগতি সহভাগিতা সভা অনুষ্ঠিত কবিতাঃ যাত্রাপথে আতঙ্ক গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন: জমি রক্ষায় দুই গ্রামবাসীর মানববন্ধন খুলনা আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থী সপ্তসী রায় জন্মাষ্টমীর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন রাসুল (সা.)সুন্নাহ অনুসরণেই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত- সীরতুন্নবী মাহফিলের ১৬তম দিবসে বক্তারা তফসিলের আগেই দৌড়ঝাঁপ:ক্ষেতলাল, বড়াইলের চেয়ারম্যান হতে গ্রামবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন মুর্শিদ খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নবাগত উপপরিচালকের সঙ্গে সিইউসি পরিবারের সৌজন্য সাক্ষাৎ চারুকলায় অবদানের স্বীকৃতি: গুণীজন সম্মাননা পেলেন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সোসাইটি

গুরুর ছায়ায় শিষ্যের পথচলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৬১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২১৬

 

লেখক মোঃ নাসির উদ্দিন, গলাচিপা পটুয়াখালী।

জীবনের পথ কখনো সরল নয়। কখনো সেখানে রোদ, কখনো ঝড়, কখনো অন্ধকার রাত। মানুষ যখন পথ হারিয়ে ফেলে, তখন একজন সত্যিকারের গুরু হয়ে ওঠেন সেই প্রদীপ যাঁর আলোয় শিষ্য আবার নিজের পথ খুঁজে পায়।
একদিন এক শিষ্য গভীর কষ্ট নিয়ে গুরুর কাছে এসে বলল,
গুরুজি, আমি বারবার হেরে যাচ্ছি। যত চেষ্টা করি, ততই মনে হয় জীবন আমাকে পিছনে ঠেলে দিচ্ছে।

গুরু মৃদু হেসে বললেন,
তুমি কি কখনো নদীকে দেখেছ? নদী যখন পাথরের সামনে পড়ে, তখন কি থেমে যায়?
শিষ্য মাথা নিচু করে বলল,
না গুরুজি, নদী তো পথ বদলে নেয়।

গুরু বললেন,
ঠিক তাই। জীবনেও পাথর আসবে, বাধা আসবে, মানুষ তোমাকে ভুল বুঝবে। কিন্তু তুমি যদি থেমে যাও, তবে তোমার যাত্রা সেখানেই শেষ। আর যদি ধৈর্য ধরো, তবে একদিন সেই বাধাকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে।
শিষ্যের চোখে তখন অশ্রু।
সে বুঝতে পারল গুরু শুধু তাকে কথা শেখাচ্ছেন না, তাঁকে জীবন বুঝতে শেখাচ্ছেন।

দিনের পর দিন শিষ্য গুরুর সান্নিধ্যে থাকল। কখনো গুরু তাকে কঠিন কথা বললেন, কখনো নীরব রইলেন, আবার কখনো ভুলের জন্য শাসন করলেন। তখন শিষ্যের মনে অভিমান হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সে বুঝল গুরুর প্রতিটি কঠিন কথার আড়ালেই ছিল ভালোবাসা, প্রতিটি শাসনের পেছনে ছিল মঙ্গল কামনা।
একদিন শিষ্য বলল,
গুরুজি, আপনি আমাকে এত কিছু দিয়েছেন, আমি আপনাকে কী দিতে পারি?

গুরু আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে বললেন,
আমাকে কিছু দিতে হবে না। শুধু মনে রেখো—তুমি যখন নিজের জীবনে আলো হয়ে উঠবে, তখন সেই আলো অন্য একজন পথহারা মানুষের হাতে তুলে দিও। এটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

শিষ্য তখন গুরুর পায়ের কাছে মাথা রেখে নীরবে কাঁদতে লাগল।
কারণ সে বুঝে গিয়েছিল গুরু মানে শুধু একজন শিক্ষক নন। গুরু মানে অন্ধকারে আশ্রয়, বিপদের দিনে সাহস, ভুলের সময়ে সংশোধন, আর ভেঙে পড়ার মুহূর্তে বুকের ভেতর নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি।

জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও একজন সত্যিকারের শিষ্য তাই গুরুকে ভুলতে পারে না। কারণ পৃথিবীর অনেক মানুষ জীবনে আসে, আবার চলে যায়; কিন্তু একজন সত্যিকারের গুরু হৃদয়ের ভেতরে এমন একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়ে যান, যার আলো কখনো নিভে যায় না।

গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা মানে শুধু মাথা নত করা নয় গুরুর শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে সৎ পথে চলাই হলো প্রকৃত শিষ্যত্ব।

পর্ব,,,,(১) এক,,
লেখকঃ মোঃ নাসির উদ্দিন,, গলাচিপা,, পটুয়াখালী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গুরুর ছায়ায় শিষ্যের পথচলা

আপডেট সময় : ০২:৪৫:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
২১৬

 

লেখক মোঃ নাসির উদ্দিন, গলাচিপা পটুয়াখালী।

জীবনের পথ কখনো সরল নয়। কখনো সেখানে রোদ, কখনো ঝড়, কখনো অন্ধকার রাত। মানুষ যখন পথ হারিয়ে ফেলে, তখন একজন সত্যিকারের গুরু হয়ে ওঠেন সেই প্রদীপ যাঁর আলোয় শিষ্য আবার নিজের পথ খুঁজে পায়।
একদিন এক শিষ্য গভীর কষ্ট নিয়ে গুরুর কাছে এসে বলল,
গুরুজি, আমি বারবার হেরে যাচ্ছি। যত চেষ্টা করি, ততই মনে হয় জীবন আমাকে পিছনে ঠেলে দিচ্ছে।

গুরু মৃদু হেসে বললেন,
তুমি কি কখনো নদীকে দেখেছ? নদী যখন পাথরের সামনে পড়ে, তখন কি থেমে যায়?
শিষ্য মাথা নিচু করে বলল,
না গুরুজি, নদী তো পথ বদলে নেয়।

গুরু বললেন,
ঠিক তাই। জীবনেও পাথর আসবে, বাধা আসবে, মানুষ তোমাকে ভুল বুঝবে। কিন্তু তুমি যদি থেমে যাও, তবে তোমার যাত্রা সেখানেই শেষ। আর যদি ধৈর্য ধরো, তবে একদিন সেই বাধাকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে।
শিষ্যের চোখে তখন অশ্রু।
সে বুঝতে পারল গুরু শুধু তাকে কথা শেখাচ্ছেন না, তাঁকে জীবন বুঝতে শেখাচ্ছেন।

দিনের পর দিন শিষ্য গুরুর সান্নিধ্যে থাকল। কখনো গুরু তাকে কঠিন কথা বললেন, কখনো নীরব রইলেন, আবার কখনো ভুলের জন্য শাসন করলেন। তখন শিষ্যের মনে অভিমান হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সে বুঝল গুরুর প্রতিটি কঠিন কথার আড়ালেই ছিল ভালোবাসা, প্রতিটি শাসনের পেছনে ছিল মঙ্গল কামনা।
একদিন শিষ্য বলল,
গুরুজি, আপনি আমাকে এত কিছু দিয়েছেন, আমি আপনাকে কী দিতে পারি?

গুরু আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে বললেন,
আমাকে কিছু দিতে হবে না। শুধু মনে রেখো—তুমি যখন নিজের জীবনে আলো হয়ে উঠবে, তখন সেই আলো অন্য একজন পথহারা মানুষের হাতে তুলে দিও। এটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

শিষ্য তখন গুরুর পায়ের কাছে মাথা রেখে নীরবে কাঁদতে লাগল।
কারণ সে বুঝে গিয়েছিল গুরু মানে শুধু একজন শিক্ষক নন। গুরু মানে অন্ধকারে আশ্রয়, বিপদের দিনে সাহস, ভুলের সময়ে সংশোধন, আর ভেঙে পড়ার মুহূর্তে বুকের ভেতর নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি।

জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও একজন সত্যিকারের শিষ্য তাই গুরুকে ভুলতে পারে না। কারণ পৃথিবীর অনেক মানুষ জীবনে আসে, আবার চলে যায়; কিন্তু একজন সত্যিকারের গুরু হৃদয়ের ভেতরে এমন একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়ে যান, যার আলো কখনো নিভে যায় না।

গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা মানে শুধু মাথা নত করা নয় গুরুর শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে সৎ পথে চলাই হলো প্রকৃত শিষ্যত্ব।

পর্ব,,,,(১) এক,,
লেখকঃ মোঃ নাসির উদ্দিন,, গলাচিপা,, পটুয়াখালী।