ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
খুলনা আর্ট একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণশালায় শিক্ষার্থী চারুলতা ঢালীর অনন্য উপহার গোয়াইনঘাটে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত উপজেলা গঠনে অগ্রগতি সহভাগিতা সভা অনুষ্ঠিত কবিতাঃ যাত্রাপথে আতঙ্ক গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন: জমি রক্ষায় দুই গ্রামবাসীর মানববন্ধন খুলনা আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থী সপ্তসী রায় জন্মাষ্টমীর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন রাসুল (সা.)সুন্নাহ অনুসরণেই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত- সীরতুন্নবী মাহফিলের ১৬তম দিবসে বক্তারা তফসিলের আগেই দৌড়ঝাঁপ:ক্ষেতলাল, বড়াইলের চেয়ারম্যান হতে গ্রামবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন মুর্শিদ খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নবাগত উপপরিচালকের সঙ্গে সিইউসি পরিবারের সৌজন্য সাক্ষাৎ চারুকলায় অবদানের স্বীকৃতি: গুণীজন সম্মাননা পেলেন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সোসাইটি

এ অপেক্ষার অবসান কোথায়?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৬২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৫৪

 

মোঃ নাসির উদ্দিন বিষেশ, প্রতিনিধিঃপটুয়াখালী।

আসসালামু আলাইকুম।
এ অপেক্ষার অবসান কোথায় জানি না। জানি না আর কত রাত নির্ঘুম কেটে যাবে, কত সকাল বুকভরা উৎকণ্ঠা নিয়ে শুরু হবে। তবুও এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে পথ চেয়ে আছি। বিশ্বাস করি, মহান আল্লাহ আমাদের কান্না শুনবেন, আমাদের বাবাই সোনাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে আবারও আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেবেন—ইনশাআল্লাহ।

গত ২৪ জুলাই ২০২৬ থেকে হাসপাতালে ভর্তি আমাদের প্রিয় বাবাই সোনা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা ছোট্ট শিশুটিকে দেখে বুকটা যেন বারবার ভেঙে যায়। যে বয়সে তার হাসি-খেলায় মুখর থাকার কথা, সেই বয়সে তাকে লড়তে হচ্ছে কঠিন এক বাস্তবতার সঙ্গে।

মেরু ট্রান্সপ্লান্টের আগে চিকিৎসকরা বাবাই সোনার জন্য তিনটি Targeted Chemotherapy দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এর মধ্যে দুটি ইমিউনোথেরাপি ২৯ জুলাই ও ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়টির তারিখ ছিল ১২ আগস্ট। কিন্তু পরপর দুটি ইমিউনোথেরাপির কারণে বাবাই সোনার WBC, Hemoglobin, Plateletসহ রক্তের অন্যান্য কাউন্ট অনেক কমে যাওয়ায় তৃতীয় ইমিউনোথেরাপিটি আপাতত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এরই মধ্যে বাবাই সোনাকে দেওয়া হয়েছে ২ ব্যাগ রক্ত, ৩ ব্যাগ White Blood Cell এবং ৪ ব্যাগ Platelet। এতকিছুর পরও তার রক্তের কাউন্ট আশানুরূপভাবে বাড়ছে না। চিকিৎসা চলছে, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
আর হাসপাতালের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে এক বুক দুশ্চিন্তা, ভয় আর প্রার্থনার মধ্যে।

কখনো কখনো মনে হয় মানুষের হাতে আর কিছুই নেই। তখন দু’হাত তুলে শুধু একজনের কাছেই ফিরে যেতে হয় আমাদের মহান আল্লাহর দরবারে।
হে আল্লাহ, তুমি তো অন্তরের খবর জানো।
হে পরম দয়াময়, তোমার দরবারে আমার কী চাওয়ার তুমিই তো জানো।

আমরা অর্থ চাই না, সম্পদ চাই না, দুনিয়ার কোনো বড় চাওয়া চাই না। শুধু আমাদের বাবাই সোনাকে সুস্থ করে দাও। তার ছোট্ট মুখের হাসিটা ফিরিয়ে দাও। তার মায়ের বুকের কান্না থামিয়ে দাও। তার বাবার উৎকণ্ঠিত চোখে আবারও আশার আলো জ্বেলে দাও।

হে আল্লাহ, যে শিশুটি আজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তোমার রহমতের অপেক্ষায়, তার প্রতি তুমি রহম করো। তার শরীরের প্রতিটি দুর্বলতা শক্তিতে পরিণত করে দাও। তার WBC, Hemoglobin, Plateletসহ সব কাউন্ট স্বাভাবিক করে দাও।

চিকিৎসাকে সফল করে দাও। চিকিৎসকদের হাতকে তোমার রহমতের উসিলা বানিয়ে দাও।
আমরা জানি তোমার একটি ‘কুন’ই অসম্ভবকে সম্ভব করে দিতে পারে।
তাই আজও আমরা হাল ছাড়িনি। চোখে পানি, বুকে ভয়, তবুও হৃদয়ের গভীরে একটি বিশ্বাস বেঁচে আছে

আল্লাহ চাইলে বাবাই সোনা আবার সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরবেই, ইনশাআল্লাহ।

সবাই বাবাই সোনার জন্য মন থেকে দোয়া করবেন।
আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এবং তার মা-বাবার কোলে হাসিমুখে ফিরিয়ে দেন।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এ অপেক্ষার অবসান কোথায়?

আপডেট সময় : ০৫:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
২৫৪

 

মোঃ নাসির উদ্দিন বিষেশ, প্রতিনিধিঃপটুয়াখালী।

আসসালামু আলাইকুম।
এ অপেক্ষার অবসান কোথায় জানি না। জানি না আর কত রাত নির্ঘুম কেটে যাবে, কত সকাল বুকভরা উৎকণ্ঠা নিয়ে শুরু হবে। তবুও এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে পথ চেয়ে আছি। বিশ্বাস করি, মহান আল্লাহ আমাদের কান্না শুনবেন, আমাদের বাবাই সোনাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে আবারও আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেবেন—ইনশাআল্লাহ।

গত ২৪ জুলাই ২০২৬ থেকে হাসপাতালে ভর্তি আমাদের প্রিয় বাবাই সোনা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা ছোট্ট শিশুটিকে দেখে বুকটা যেন বারবার ভেঙে যায়। যে বয়সে তার হাসি-খেলায় মুখর থাকার কথা, সেই বয়সে তাকে লড়তে হচ্ছে কঠিন এক বাস্তবতার সঙ্গে।

মেরু ট্রান্সপ্লান্টের আগে চিকিৎসকরা বাবাই সোনার জন্য তিনটি Targeted Chemotherapy দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এর মধ্যে দুটি ইমিউনোথেরাপি ২৯ জুলাই ও ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়টির তারিখ ছিল ১২ আগস্ট। কিন্তু পরপর দুটি ইমিউনোথেরাপির কারণে বাবাই সোনার WBC, Hemoglobin, Plateletসহ রক্তের অন্যান্য কাউন্ট অনেক কমে যাওয়ায় তৃতীয় ইমিউনোথেরাপিটি আপাতত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এরই মধ্যে বাবাই সোনাকে দেওয়া হয়েছে ২ ব্যাগ রক্ত, ৩ ব্যাগ White Blood Cell এবং ৪ ব্যাগ Platelet। এতকিছুর পরও তার রক্তের কাউন্ট আশানুরূপভাবে বাড়ছে না। চিকিৎসা চলছে, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
আর হাসপাতালের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে এক বুক দুশ্চিন্তা, ভয় আর প্রার্থনার মধ্যে।

কখনো কখনো মনে হয় মানুষের হাতে আর কিছুই নেই। তখন দু’হাত তুলে শুধু একজনের কাছেই ফিরে যেতে হয় আমাদের মহান আল্লাহর দরবারে।
হে আল্লাহ, তুমি তো অন্তরের খবর জানো।
হে পরম দয়াময়, তোমার দরবারে আমার কী চাওয়ার তুমিই তো জানো।

আমরা অর্থ চাই না, সম্পদ চাই না, দুনিয়ার কোনো বড় চাওয়া চাই না। শুধু আমাদের বাবাই সোনাকে সুস্থ করে দাও। তার ছোট্ট মুখের হাসিটা ফিরিয়ে দাও। তার মায়ের বুকের কান্না থামিয়ে দাও। তার বাবার উৎকণ্ঠিত চোখে আবারও আশার আলো জ্বেলে দাও।

হে আল্লাহ, যে শিশুটি আজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তোমার রহমতের অপেক্ষায়, তার প্রতি তুমি রহম করো। তার শরীরের প্রতিটি দুর্বলতা শক্তিতে পরিণত করে দাও। তার WBC, Hemoglobin, Plateletসহ সব কাউন্ট স্বাভাবিক করে দাও।

চিকিৎসাকে সফল করে দাও। চিকিৎসকদের হাতকে তোমার রহমতের উসিলা বানিয়ে দাও।
আমরা জানি তোমার একটি ‘কুন’ই অসম্ভবকে সম্ভব করে দিতে পারে।
তাই আজও আমরা হাল ছাড়িনি। চোখে পানি, বুকে ভয়, তবুও হৃদয়ের গভীরে একটি বিশ্বাস বেঁচে আছে

আল্লাহ চাইলে বাবাই সোনা আবার সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরবেই, ইনশাআল্লাহ।

সবাই বাবাই সোনার জন্য মন থেকে দোয়া করবেন।
আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এবং তার মা-বাবার কোলে হাসিমুখে ফিরিয়ে দেন।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।