নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ ও তরুণ শ্রমিকদের জন্য প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের নিম্নতম মজুরি কাঠামোকে অপর্যাপ্ত ও শ্রমিকবান্ধব নয় বলে দাবি করেছে সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন (SSF)। বর্তমান বাজারদর, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সম্প্রতি নিম্নতম মজুরি বোর্ডের পক্ষ থেকে ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রাপ্তবয়স্ক অদক্ষ ও তরুণ শ্রমিকদের জন্য ২০২৬ সালের খসড়া নিম্নতম মজুরি সুপারিশ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই খসড়া পর্যালোচনা করে শ্রমিকপক্ষ থেকে উদ্বেগ ও আপত্তি জানানো হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে SSF।

সংগঠনটির মতে, প্রস্তাবিত মজুরি বর্তমান দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন শ্রমিকের মজুরি শুধু শ্রমের বিনিময়ে প্রদেয় অর্থ নয়; শ্রমিক ও তার পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করারও অন্যতম মাধ্যম।

SSF বলছে, নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু মালিকপক্ষের সক্ষমতা বিবেচনা করলে হবে না। শ্রমিক ও তার পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বাজারদর, জাতীয় আয়, উৎপাদনশীলতা, শিল্পের সক্ষমতা এবং শ্রমিকের মৌলিক চাহিদাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তরুণ শ্রমিকদের বিষয়ে সংগঠনটি বলেছে, বয়সের কারণে তাদের শ্রমের প্রকৃত মূল্য কমিয়ে দেখার সুযোগ নেই। কাজের ধরন, দায়িত্ব, কর্মঘণ্টা ও উৎপাদনে অবদানের ভিত্তিতে তাদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের দাবিগুলো হলো— বর্তমান বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ; শ্রমিক ও পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করা; তরুণ শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য শ্রমমূল্য নির্ধারণ; মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় শ্রমিক সংগঠন ও প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত বিবেচনায় নেওয়া।

এ ছাড়া পূর্ণকালীন একজন শ্রমিক যেন আইনি কর্মঘণ্টা অনুযায়ী কাজ করেও দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করতে বাধ্য না হন—এমন পর্যায়ে মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে খসড়া সুপারিশ পুনর্মূল্যায়ন করে শ্রমিকপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডে পর্যাপ্ত আনুষ্ঠানিক শুনানির সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন মনে করে, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকসই শিল্পসম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ফেডারেশন আশা প্রকাশ করেছে, নিম্নতম মজুরি বোর্ড শ্রমিকপক্ষের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি ন্যায়সংগত, বাস্তবসম্মত ও শ্রমিকবান্ধব নিম্নতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করবে।