মোঃ মেহেদী হাসান (বাচ্চু)পটুয়াখালী:

একসময় বিষধর সাপ দেখলেই আতঙ্কে মানুষ তা পিটিয়ে মেরে ফেলত। অথচ সেই সাপের বিষই এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোটি টাকার সম্পদ। জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রধান উপাদান এই ভেনমের জন্য বাংলাদেশকে প্রতি বছর বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে দেশের মাটিতেই উৎপাদিত সাপের বিষ বাজারজাতের সুযোগ না পেয়ে পড়ে আছে অবহেলায়। পটুয়াখালীর এক উদ্যোক্তার গড়ে তোলা ‘বাংলাদেশ স্নেক ভেনম’ খামারটি সরকারি নিবন্ধন পেলেও সহযোগিতা ও নীতিগত জটিলতায় এখনো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না এখান থেকে উৎপাদিত ভেনম।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে বিষধর সাপ সংরক্ষণ ও ভেনম সংগ্রহের কাজ করে আসছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ স্নেক ভেনম’ খামারে বর্তমানে বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপ থেকে নিয়মিত ভেনম সংগ্রহ করা হলেও তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বা বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না।

খামারটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাসের নিজ বাড়ির সামনেই গড়ে উঠেছে সাপের এই খামার। একটি ঘরের ভেতরে ছোট ছোট খাঁচায় রাখা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপ। প্রতিটি খাঁচা অনেকটা লকারের মতো। সামনে লেখা রয়েছে সাপের প্রজাতির নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য। খামারের শ্রমিকরা নিয়মিত সাপগুলোর পরিচর্যা করছেন।

খামারটিতে রয়েছে কিং কোবরা, পাইথন, পঙ্খীরাজ, কালকুলিন, সাদা গোখরা, কেউটে, রাসেলস ভাইপার, দাঁড়াশ, বাসুয়া, পদ্ম গোখরা, বিষঝুড়ি ও গোঁড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির আড়াই শতাধিক বিষধর সাপ।